ইসলাম এবং জীবনইসলামিক শিক্ষা, আমল ও অনুপ্রেরণা

Islam & Life হাদীস

https://hadeethenc.com/bn/browse/hadith/3345

যাচাইকৃত কনটেন্ট থেকে আরবি, বাংলা অর্থ, ব্যাখ্যা ও রেফারেন্স সংরক্ষিতভাবে দেখানো হচ্ছে।

আরবি হাদীস

عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رضي الله عنه قَالَ: قِيلَ لَهُ: أَلَا تَدْخُلُ عَلَى عُثْمَانَ فَتُكَلِّمَهُ؟ فَقَالَ: أَتَرَوْنَ أَنِّي لَا أُكَلِّمُهُ إِلَّا أُسْمِعُكُمْ؟ وَاللهِ لَقَدْ كَلَّمْتُهُ فِيمَا بَيْنِي وَبَيْنَهُ، مَا دُونَ أَنْ أَفْتَتِحَ أَمْرًا لَا أُحِبُّ أَنْ أَكُونَ أَوَّلَ مَنْ فَتَحَهُ، وَلَا أَقُولُ لِأَحَدٍ يَكُونُ عَلَيَّ أَمِيرًا: إِنَّهُ خَيْرُ النَّاسِ بَعْدَمَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «يُؤْتَى بِالرَّجُلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَيُلْقَى فِي النَّارِ، فَتَنْدَلِقُ أَقْتَابُ بَطْنِهِ، فَيَدُورُ بِهَا كَمَا يَدُورُ الْحِمَارُ بِالرَّحَى، فَيَجْتَمِعُ إِلَيْهِ أَهْلُ النَّارِ، فَيَقُولُونَ: يَا فُلَانُ مَا لَكَ؟ أَلَمْ تَكُنْ تَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ، وَتَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ؟ فَيَقُولُ: بَلَى، قَدْ كُنْتُ آمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَلَا آتِيهِ، وَأَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ وَآتِيهِ».

বাংলা অনুবাদ

উসামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তাকে বলা হল, আপনি উসমান রা. এর নিকট গিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করবেন না? উত্তরে তিনি বললেন, আপনারা কি মনে করছেন যে আমি তাঁর সঙ্গে আপনাদেরকে শুনিয়ে শুনিয়ে কথা বলব? অথচ আমি আল্লাহর কসম তাঁর সঙ্গে (দাঙ্গা দমনের ব্যাপারে) গোপনে আলোচনা করছি, যেন আমার দ্বারা ফিতনার দরজা খুলে না যায়। আমি দ্বার উন্মুক্তকারীর প্রথম ব্যক্তি হতে চাই না। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ হাদীস শোনার পর যাকে আমার ওপর আমীর করা হয়েছে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে এ কথা বলবো না যে তিনি আমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি। “কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে আনা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তখন তার পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যাবে। এ সময় সে ঘুরতে থাকবে যেমন গাধা চাকির চারপাশে ঘুরতে থাকে। তখন জাহান্নামবাসীরা তার নিকট একত্রিত হয়ে তাকে বলবে, হে অমুক ব্যক্তি! তোমার এ অবস্থা কেন? তুমি না আমাদেরকে সৎ কাজের আদেশ করতে আর অন্যায় কাজ হতে নিষেধ করতে? সে বলবে, আমি তোমাদেরকে সৎ কাজে আদেশ করতাম বটে, কিন্তু আমি তা করতাম না আর আমি তোমাদেরকে অন্যায় কাজ হতে নিষেধ করতাম, অথচ আমিই তা করতাম”।

ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা 1

قيل لأسامة بن زيد رضي الله عنهما: ألا تدخل على عثمان بن عفان رضي الله عنه فتُكلِّمه فيما وقع من الفتنة بين الناس والسعي في إطفائها برمتها، فأبلغهم أنه كلمه سرًا طلبًا للمصلحة لا تهييجًا للفتنة، وغرضه أنه لا يريد المجاهرة بالإنكار على الأمراء في الملأ، فتكون سببًا للتطاول على الخليفة، وهو بابُ فتنةٍ وشر لا أكون أول من فتحه. ثم قال أسامة رضي الله عنهما: بأنه ينصحُ الأمراءَ في السر ولا يداهن أحدًا ولو كان أميرًا، ولا يَتملَّق لهم فيمدحهم في وجوههم بالباطل، وذلك بعدما سمع من النبي صلى الله عليه وسلم أنه يؤتى يوم القيامة برجل، فيُلقى في النار، فتخرج أمعاؤه من بطنه خروجًا سريعًا من شدة الحر وشدة العذاب، فيدور بأمعائه على هذه الحالة في النار كدَوَرَان الحمار حول رَحَاه الذي هو حَجَر الطاحون، فيجتمع حولَه أهلُ النار على هيئة حلقة تحيط به، فيسألونه: يا فلان، ألستَ كنتَ تأمر بالمعروف وتنهى عن المنكر؟! فيقول: إني كنت آمر بالمعروف ولا أفعلُه، وأنهى عن المنكر وأفعلُه.

ব্যাখ্যা 2

ওসামা ইবন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলা হল: আপনি কি উসমান ইবন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে যাবেন না এবং তার সাথে মানুষের মধ্যে যে কলহ সৃষ্টি হয়েছে সে সম্পর্কে কথা বলবেন না এবং তা নিভানোর চেষ্টা করবেন না? তাই তিনি তাদের জানালেন যে তিনি জনস্বার্থে তার সাথে গোপনে কথা বলেছেন যেন বিবাদ তুঙ্গে না ওঠে। তার উদ্দেশ্য ছিল যে তিনি প্রকাশ্যে আমীরদেরকে নিষেধ করতে চান না, ফলে এটি খলিফার উপর বাড়াবাড়ি হবে। এটা ফিতনা ও মন্দের দরজা যাকে আমি প্রথম উন্মুক্তকারী হতে চাই না। অতঃপর ওসামা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বললেনঃ তিনি আমীরদের গোপনে উপদেশ দেন এবং কাউকে তোষামোদ করেন না, যদিও তিনি একজন আমীর হন। তিনি তাদের মুখে মিথ্যা প্রশংসা করে তাদের তোষামোদ করেন না। কারণ, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন যে, কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে এবং তার নাড়িভুঁড়িগুলো তার পেট থেকে গরমের তীব্রতা ও আযাবের তীব্রতার কারণে দ্রুত বের হয়ে আসবে। সে আগুনের মধ্যে এই অবস্থায় তার নাড়িভুঁড়িগুলো নিয়ে ঘুরতে থাকবে, যেমন একটি গাধা তার চাকতি চারপাশে ঘুরে , যা হলো গম ভাঙ্গানোর চাকতি। ফলে জাহান্নামীরা তাকে ঘিরে একটি বৃত্তের আকারে তার চারপাশে জড়ো হবে এবং তারা তাকে জিজ্ঞাসা করবে: হে অমুক, তুমি কি সৎকাজের আদেশ করনি এবং অন্যায় থেকে নিষেধ করনি? তখন তিনি বলবেনঃ আমি সৎকাজের নির্দেশ দিতাম, তবে তা করতাম না এবং অসৎকাজে নিষেধ করতাম এবং তা করতাম।

ব্যাখ্যা 3

الأصلُ في النصح لولاة الأمور أن يكون فيما بينهم وبينه، وأن لا يتحدث به الإنسان بين عامة الناس. الوعيد الشديد لمن يخالف قولُه فعلَه. الأدب مع الأمراء والتلطف بهم، وأمرهم بالمعروف ونهيهم عن المنكر. ذم مداهنة الأمراء في الحق وإظهار ما يبطن خلافه كالمُتملِّق بالباطل.

ব্যাখ্যা 4

ওসামা ইবন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলা হল: আপনি কি উসমান ইবন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে যাবেন না এবং তার সাথে মানুষের মধ্যে যে কলহ সৃষ্টি হয়েছে সে সম্পর্কে কথা বলবেন না এবং তা নিভানোর চেষ্টা করবেন না? তাই তিনি তাদের জানালেন যে তিনি জনস্বার্থে তার সাথে গোপনে কথা বলেছেন যেন বিবাদ তুঙ্গে না ওঠে। তার উদ্দেশ্য ছিল যে তিনি প্রকাশ্যে আমীরদেরকে নিষেধ করতে চান না, ফলে এটি খলিফার উপর বাড়াবাড়ি হবে। এটা ফিতনা ও মন্দের দরজা যাকে আমি প্রথম উন্মুক্তকারী হতে চাই না। অতঃপর ওসামা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বললেনঃ তিনি আমীরদের গোপনে উপদেশ দেন এবং কাউকে তোষামোদ করেন না, যদিও তিনি একজন আমীর হন। তিনি তাদের মুখে মিথ্যা প্রশংসা করে তাদের তোষামোদ করেন না। কারণ, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন যে, কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে এবং তার নাড়িভুঁড়িগুলো তার পেট থেকে গরমের তীব্রতা ও আযাবের তীব্রতার কারণে দ্রুত বের হয়ে আসবে। সে আগুনের মধ্যে এই অবস্থায় তার নাড়িভুঁড়িগুলো নিয়ে ঘুরতে থাকবে, যেমন একটি গাধা তার চাকতি চারপাশে ঘুরে , যা হলো গম ভাঙ্গানোর চাকতি। ফলে জাহান্নামীরা তাকে ঘিরে একটি বৃত্তের আকারে তার চারপাশে জড়ো হবে এবং তারা তাকে জিজ্ঞাসা করবে: হে অমুক, তুমি কি সৎকাজের আদেশ করনি এবং অন্যায় থেকে নিষেধ করনি? তখন তিনি বলবেনঃ আমি সৎকাজের নির্দেশ দিতাম, তবে তা করতাম না এবং অসৎকাজে নিষেধ করতাম এবং তা করতাম।

হাদীসের মান

[সহীহ]

রেফারেন্স

  • hadeethenchttps://hadeethenc.com/bn/browse/hadith/3345
  • takhrij_arhttps://hadeethenc.com/bn/browse/hadith/3345
  • takhrij_bnhttps://hadeethenc.com/bn/browse/hadith/3345

কনটেন্ট উৎস

অ্যাট্রিবিউশন, লাইসেন্স ও উৎস-সংক্রান্ত তথ্য Islam & Life-এ আলাদা উৎস পাতায় সংরক্ষিত আছে।

কনটেন্ট উৎস দেখুন
← হাদীসে ফিরুন